যাকাতের জরুরী মাসায়েল

মাসায়িলে যাকাত

যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত


১) আযাদ হওয়া ২) মুসলমান হওয়া ৩) আকেল তথা সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন হওয়া ৪) বালেগ তথা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ৫) নেছাবের মালিক হওয়া ৬) সেই মালের উপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া। (হেদায়া১/১৬৫)


৭) এমন জিনিসের নেসাবের মালিক হতে হবে যা এক বছর পর্যন্ত বাকি থাকে। ৮) ঐ


মাল হাজতে আছলিয়া তথা মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে। ১০) মাল নিজের আয়ত্বাধীন হতে হবে। ১১) উক্ত মালের মধ্যে অন্য কোন হকের সংমিশ্রণ না থাকতে হবে। ১২) উক্ত মালের মধ্যে তিনটি গুনের একটি থাকতে হবে। ক) মূল্যবান খ


) বর্ধিষ্ণু গ) ব্যবসার নিয়ত (মাসায়িলে রিফআত ১৩/৫০)


কোন মালের উপর যাকাত ফরজ এবং নেসাব কত?


১) স্বর্ণ যদি সাড়ে সাত ভরি হয় ২) রূপা যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা হয় ৩) টাকা-পয়সা বা ব্যবসার মালের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমান হয়। কারো নিকট যদি সামান্য সোনা, সামান্য রূপা এবং অল্প কিছু টাকা আছে। তবে কোনটা পূর্ণ নেছাব হয়না। তাহলে সোনা-রূপা উভয়টির মূল্য বের করে, টাকা সহ মিলিয়ে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় এবং অন্যান্য শর্ত পাওয়া যায় তাহলে তার উপর যাকাত ফরজ হবে।


জরুরী মাসায়িল


৮৮


যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে


((নেসাবের মালিক না হওয়া শর্তে নিম্নে বর্ণিত আত্মীয় এবং লোকদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে)) ১) নিজের আপন, বৈমাত্রেয়, বৈপিত্রেয় এবং দুধ ভাই-বোনদেরকে ও তাদের


সন্তানদেরকে।


২) নিজ চাচা-ফুফু এবং তাদের সন্তানদেরকে।


৩) নিজ মামা, খালা এবং তাদের সন্তানদেরকে।


৪) নিজের শাশুর-শাশুরি এবং তাদের সন্তানদেরকে।


৫) মালদার সন্তানের পিতা মাতা যদি গরিব ও যাকাতের হকদার হয়।


৬) মালদার লোকের বালেগ সন্তানকে।


৭) মালদারের স্ত্রীকে যদি সে হকদার হয়।


৮) মালদার স্ত্রীর স্বামী যদি সে হকদার হয়।


৯) নিজের জামাতা এবং পুত্র বধুকে।


১০) উস্তাদ-ছাত্র একে অপরকে।


১১) স্বামী নিজ স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তানদেরকে।


১২) স্ত্রী নিজ স্বামীর আগের ঘরের সন্তানদেরকে।


১৩) এমন মুসাফির কে যে সফরে শূণ্য হাত হয়ে গেছে। যদি ও তার দেশে অনেক সম্পদ আছে।


১৪) একাধিক স্ত্রী থাকলে এক স্ত্রী অন্য স্ত্রীর সন্তানদেরকে যাকাত দিতে পারবে। ১৫) যার আয়-রোজগার অনেক কিন্তু সে কর্জদার। (মাহমুদিয়া ১৩/১০৬)


যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে না


১) যার নিকট নেসাব পরিমাণ মাল আছে।


২) যারা সাইয়িদ বংশ।


৩) নিজের মা, বাবা, দাদা, দাদী, নানা ও নানী।


৪) নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি ও নাতনী।


৫) যাকাত দাতার স্বামী বা স্ত্রীকে।


৬) অমুসলিমকে।


৭) মালদার লোকের নাবালেগ সন্তানকে।


৮) মাদ্রাসা-মসজিদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট, পুল ইত্যাদি নির্মাণ কাজে।

৯) মাইয়িতের কাফন-দাফন ও ঋণ পরিশোধকল্পে।


১০) নির্দিষ্ট মালিক বানানো ছাড়া মাদ্রাসায় কোন জিনিস ক্রয় করে দিলে।


ঋনের যাকাত কে দিবে?


কেউ অপর কাউকে টাকা কর্জ দিলে এই টাকার যাকাত কর্জদাতাই দিতে হবে। অবশ্য


যদি ঐ টাকা না পাওয়ার প্রবল ধারণা হয় বা টাকার বিলুপ্তি ঘটে তাহলে আর যাকাত


দিতে হবে না। (দা. উলুম ৬/৯৭)


যাকাতের নিয়তে ঋণ মাফ করে দেওয়া


কারো কাছে টাকা পাওনা থাকলে, সে টাকা না নিয়ে যাকাতের নিয়ত করে ফেললে যাকাত আদায় হবে না। বরং তার হাতে যাকাত দিয়ে পুণরায় কর্জ বাবদ নিয়ে নিবে। (আপকে মাসায়িল ৩/৩৮৩)


কাউকে ঋণ বা হাদিয়ার নামে যাকাত দেওয়া


অন্তরে যাকাত আদায়ের নিয়ত রেখে মুখে যেটাই বলুক না কেন তা যাকাতই হবে। বরং কারো ব্যাপার যদি এমন হয় যে, তাকে যাকাত বললে সে নিতে রাজি হবে না বা মানহানী হবে, তাহলে এমতাবস্থায় অন্তরে যাকাতের নিয়ত রেখে হাদিয়া ইত্যাদি বলে দেওয়া উত্তম। (শামী)


প্লট বা ফ্লাটের যাকাত


যদি কেউ জমি, প্লট বা ফ্লাট কিনে তাহলে কেনার সময় তার নিয়ত তিন রকমের হতে পারে ১. এখন কিনে পরে সুবিধা মতে বিক্রি করে দেব। এমতাবস্থায় প্রতি বছর বাজার মূল্যের উপর যাকাত ফরজ হবে। ২. নিজে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করব, তাহলে যাকাত দিতে হবে না। ৩.কোন নিয়ত করেনি, তাহলেও যাকাত দিতে হবে না। (আপকে মাসায়িল ৩/৩৭১)


ডেকোরেশনের যাকাত


দোকান, অফিস বা শো-রুমে যে ডেকোরেশন করা হয় তা যত মূল্যবান হোক না কেন যাকাত দিতে হবে না। তবে ফার্ণিচারের দোকানে যে আলমারী, শোকেচ, চেয়ার সেট সাজিয়ে রাখা হয় সেগুলোর যাকাত দিতে হবে। কারণ এ সব ব্যবসার নিয়তে রাখা হয়েছে। ডেকোরেশনের দোকানে ভাড়া দেওয়ার লক্ষে রাখা মালামাল লাখ টাকার হলেও সেগুলোর মূল্যের উপর যাকাত আসবে না। বরং তা ভাড়ায় খাটিয়ে যে মুনাফা অর্জিত হয় সে মুনাফার উপর শর্ত সাপেক্ষে যাকাত আদায় করতে হবে। অনুরুপ প্রিন্টিং প্রেস বা কল কারখানার মেশিন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতির কোন যাকাত আসবে না। তবে যদি সে সব মেশিনের ব্যবসা করা হয় তাহলে যাকাত আসবে। (মাসায়িলে


যাকাত রিফআত-১৩/৫৩)


জরুরী মাসায়িল


৯০


গাড়ীর যাকাত


ভাড়ায় খাটিয়ে মুনাফা অর্জনের জন্য যে গাড়ী ক্রয় করা হয় সেগুলোর উপর কোন যাকাত আসবে না। বরং গাড়ীর আয়ের উপর শর্ত সাপেক্ষে যাকাত দিতে হবে। আর যদি ব্যবসার জন্য গাড়ী স্টক রাখা হয়, তাহলে গাড়ীর মূল্যের উপর যাকাত আসবে। (আপকে মাসায়িল ৩/৩৭৬)


ডায়মন্ড বা মণী মুক্তার যাকাত


স্বর্ণ কিংবা রূপা ছাড়া অন্য কোনো অলঙ্কারের উপর যাকাত আসেনা। সুতরাং কারো কাছে ডায়মন্ড বা হীরা খন্ড বা মণী মুক্তা থাকলে (ব্যবহারের নিয়তে) তা যত মূল্যবানই হোকনা কেন তার উপর যাকাত ফরজ হবেনা। তবে যদি তা ব্যবসার নিয়তে রাখে তাহলে তার মূল্য হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা


৬/৪৪৭ এর বরাতে কিতাবুন নাওয়াজেল ৬/৪৪৯)


যাকাতের টাকা দিয়ে গরীবের ঘর মেরামত করা


নিজে গরীবের ঘর মেরামতে সরাসরি যাকাতের টাকা খরচ করলে যাকাত আদায় হবে না, বরং টাকা গরীবের হাতেই তুলে দিতে হবে। অনুরুপ গরীবের মেয়ের বিয়েতে যাকাতের টাকা ব্যয় করারও একই হুকুম। কোন গরীবের চিকিৎসা খরচ চালালে বা ঔষধ ক্রয় করে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। (ফ. দারুল উলুম ৬/২৪১)

যাকাতের নিয়তে ঋণ মাফ করে দেওয়া


কারো কাছে টাকা পাওনা থাকলে, সে টাকা না নিয়ে যাকাতের নিয়ত করে ফেললে যাকাত আদায় হবে না। বরং তার হাতে যাকাত দিয়ে পুণরায় কর্জ বাবদ নিয়ে নিবে।


(আপকে মাসায়িল ৩/৩৮৩) কাউকে ঋণ বা হাদিয়ার নামে যাকাত দেওয়া


অন্তরে যাকাত আদায়ের নিয়ত রেখে মুখে যেটাই বলুক না কেন তা যাকাতই হবে। বরং কারো ব্যাপার যদি এমন হয় যে, তাকে যাকাত বললে সে নিতে রাজি হবে না বা মানহানী হবে, তাহলে এমতাবস্থায় অন্তরে যাকাতের নিয়ত রেখে হাদিয়া ইত্যাদি বলে দেওয়া উত্তম। (শামী)


প্লট বা ফ্লাটের যাকাত


যদি কেউ জমি, প্লট বা ফ্লাট কিনে তাহলে কেনার সময় তার নিয়ত তিন রকমের হতে পারে ১. এখন কিনে পরে সুবিধা মতে বিক্রি করে দেব। এমতাবস্থায় প্রতি বছর বাজার মূল্যের উপর যাকাত ফরজ হবে। ২. নিজে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করব, তাহলে যাকাত দিতে হবে না। ৩.কোন নিয়ত করেনি, তাহলেও যাকাত দিতে হবে না। (আপকে মাসায়িল ৩/৩৭১)


ডেকোরেশনের যাকাত


দোকান, অফিস বা শো-রুমে যে ডেকোরেশন করা হয় তা যত মূল্যবান হোক না কেন যাকাত দিতে হবে না। তবে ফার্ণিচারের দোকানে যে আলমারী, শোকেচ, চেয়ার সেট সাজিয়ে রাখা হয় সেগুলোর যাকাত দিতে হবে। কারণ এ সব ব্যবসার নিয়তে রাখা হয়েছে। ডেকোরেশনের দোকানে ভাড়া দেওয়ার লক্ষে রাখা মালামাল লাখ টাকার হলেও সেগুলোর মূল্যের উপর যাকাত আসবে না। বরং তা ভাড়ায় খাটিয়ে যে মুনাফা অর্জিত হয় সে মুনাফার উপর শর্ত সাপেক্ষে যাকাত আদায় করতে হবে। অনুরুপ প্রিন্টিং প্রেস বা কল কারখানার মেশিন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতির কোন যাকাত আসবে না। তবে যদি সে সব মেশিনের ব্যবসা করা হয় তাহলে যাকাত আসবে। (মাসায়িলে যাকাত রিফআত-১৩/৫৩)


জরুরী মাসায়িল


৯০


গাড়ীর যাকাত


ভাড়ায় খাটিয়ে মুনাফা অর্জনের জন্য যে গাড়ী ক্রয় করা হয় সেগুলোর উপর কোন যাকাত আসবে না। বরং গাড়ীর আয়ের উপর শর্ত সাপেক্ষে যাকাত দিতে হবে। আর যদি ব্যবসার জন্য গাড়ী স্টক রাখা হয়, তাহলে গাড়ীর মূল্যের উপর যাকাত আসবে। (আপকে মাসায়িল ৩/৩৭৬)


ডায়মন্ড বা মণী মুক্তার যাকাত


স্বর্ণ কিংবা রূপা ছাড়া অন্য কোনো অলঙ্কারের উপর যাকাত আসেনা। সুতরাং কারো কাছে ডায়মন্ড বা হীরা খন্ড বা মণী মুক্তা থাকলে (ব্যবহারের নিয়তে) তা যত মূল্যবানই হোকনা কেন তার উপর যাকাত ফরজ হবেনা। তবে যদি তা ব্যবসার নিয়তে রাখে তাহলে তার মূল্য হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৬/৪৪৭ এর


বরাতে কিতাবুন নাওয়াজেল ৬/৪৪৯)


যাকাতের টাকা দিয়ে গরীবের ঘর মেরামত করা


নিজে গরীবের ঘর মেরামতে সরাসরি যাকাতের টাকা খরচ করলে যাকাত আদায় হবে না, বরং টাকা গরীবের হাতেই তুলে দিতে হবে। অনুরুপ গরীবের মেয়ের বিয়েতে যাকাতের টাকা ব্যয় করারও একই হুকুম। কোন গরীবের চিকিৎসা খরচ চালালে বা


ঔষধ ক্রয় করে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। (ফ.দারুল উলুম ৬/২৪১) কারো জন্যে যাকাত আলাদা করে রেখে দেওয়া


যাকাতের টাকা হিসাব করে আলাদা করে যদি কোনো বিশেষ অভাবীর জন্যে রেখে দওয়া হয় তাহলে তা বৈধ। তবে যতদিন প্রকৃত মুস্তাহিকের হাতে না পৌঁছবে ততদিন যাকাত আদায় হবেনা। যেমন কেউ নিজ গরীব ভাই বোনের বিবাহের জন্য বা আত্মীয় স্বজন কারো বিবাহ উপলক্ষে বা বাড়ী ঘর নির্মাণ উপলক্ষে অনেক বছরের যাকাতের টাকা আলাদা করে জমা রাখে তাহলে তা নাজায়েয হবেনা। তবে যেদিন তাদেরকে দিয়ে দেওয়া হবে সেদিনই যাকাত আদায় হবে। এজন্য উত্তম হচ্ছে, তাদের নামে একটা একাউন্ট করে সেখানেই টাকাগুলো রেখে দেওয়া। এতে যাকাতও আদায় হয়ে


যাবে। সময়মত তাদের কাজও হবে। (কিতাবুন নাওয়াজেল ৬/৫৭৪)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ